ঢাকাSaturday , 26 September 2026
  1. আন্তর্জাতিক
  2. ইসলাম ও জীবন
  3. খেলাধুলা
  4. চিকিৎসা
  5. জাতীয়
  6. প্রবাস
  7. প্রযুক্তি
  8. বাংলাদেশ
  9. মোটিভেশনাল
  10. লাইফ স্টাইল
  11. শিক্ষা
  12. সচেতনতা
  13. সমাজ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত সফরের পাশাপাশি ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ

Hridaybd24.com
August 11, 2026 2:05 pm
Link Copied!



তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণ, মোদির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনা

বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী সেপ্টেম্বরে নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। তবে বাংলাদেশ এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সম্মেলনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র, ফিলিপাইন ও মালদ্বীপ সফর শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ঢাকায় ফিরেছেন।

এর আগে ২৩ জুলাই পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নামে পাঠানো আমন্ত্রণপত্র পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। পরে সেটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, ১৪ জুলাই ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি কূটনৈতিক পত্র পাঠানো হয়। এতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানান।

 

 

ব্রিকসের আউটরিচে বাংলাদেশের জন্য কী সুযোগ

ব্রিকসের ‘আউটরিচ’ পর্বে সাধারণত জোটের সদস্য নয়, এমন নির্বাচিত দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার নেতাদের অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। বর্তমানে ব্রিকসের সদস্য ১১টি দেশ হলো ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা, মিসর, ইথিওপিয়া, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সৌদি আরব ও ইন্দোনেশিয়া।

বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। এ বিষয়ে সদস্য দেশগুলোর সমর্থনও চেয়েছে ঢাকা। চীন ও রাশিয়া বাংলাদেশের ব্রিকস সদস্যপদের প্রতি সমর্থনের কথা জানিয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। বহুপক্ষীয় এই ফোরামে চীন, রাশিয়াসহ গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় কূটনৈতিক যোগাযোগ আরও জোরদার করার সুযোগ থাকবে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশ অংশ নেয়। তবে ২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত আউটরিচ পর্বে বাংলাদেশ অংশ নেয়নি।

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছে। তাই আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়া বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে। একই সঙ্গে এই সম্মেলন দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করতে পারে।

মোদির সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠকের সম্ভাবনা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর আমন্ত্রণপত্রে উল্লেখ করেছেন, ব্রিকস প্রতিষ্ঠার ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এবারের শীর্ষ সম্মেলন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ‘সহনশীলতা, উদ্ভাবন, সহযোগিতা ও টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি নির্মাণ’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়ন এবং ‘মানবতাই সবার আগে’ নীতির আলোকে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক গুরুত্বপূর্ণ সমসাময়িক বিষয় নিয়েও মতবিনিময়ের সুযোগ থাকবে।

বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ ব্রিকসের আউটরিচ পর্বের আলোচনাকে আরও সমৃদ্ধ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন নরেন্দ্র মোদি। একই সঙ্গে সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের আগ্রহও জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বাংলাদেশ বিমসটেকের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।

এদিকে, সচিবালয়ে সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। জবাবে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয় এবং পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে যাবেন কি না, সে বিষয়ে সরকারের পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী গেলে বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে অস্বস্তি, তবু আলোচনার সুযোগ

বাংলাদেশের সাবেক ও বর্তমান একাধিক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকের মতে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক নিয়ে জনপরিসরে যে অস্বস্তির ধারণা তৈরি হয়েছে, তাতে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসেনি।

তাঁদের মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে দুই দেশের সম্পর্ককে বাংলাদেশের একটি বড় অংশের মানুষ জনগণকেন্দ্রিক বলে মনে করেনি। ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে ইতিবাচক অগ্রগতির যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে তারও তেমন প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সীমান্তে ভারতের পুশ-ইনের চেষ্টা, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের রাজনৈতিক নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্য এবং সম্প্রতি রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফিরে রাজনীতি করার ইচ্ছা প্রকাশের বিষয়গুলোও ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

এই পরিস্থিতিতে সরকার ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে কূটনৈতিক মহলের ধারণা। একই সঙ্গে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক স্বার্থও বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক যে ধারায় এগিয়েছে, নির্বাচনের পরও তা অব্যাহত রয়েছে। ফলে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সামগ্রিক পররাষ্ট্রনীতি ও ভূরাজনৈতিক বাস্তবতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এবং বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউটের (বিইআই) সভাপতি এম হুমায়ুন কবীর বলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক যে গতিতে এগোনোর প্রত্যাশা ছিল, বাস্তবে তা দেখা যায়নি। তাঁর মতে, এমন পরিস্থিতিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন দুই প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে প্রথম বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতও সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আগ্রহী।

সব মিলিয়ে, ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের জন্য বহুপক্ষীয় কূটনীতিতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক হলে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সম্মেলনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো বাকি।